লন্ডনে টিউলিপ সিদ্দিকির ভিডিও ভাইরাল

লন্ডনে টিউলিপ সিদ্দিকির ভিডিও ভাইরাল

বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর একে একে দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে শুরু করে শেখ পরিবারের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসেন শেখ হাসিনার ভাগ্নি, ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও এতদিন তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে এবার প্রথমবারের মতো তিনি প্রকাশ্যে মুখ খুললেন।


কী বললেন টিউলিপ সিদ্দিক?


টিউলিপ সিদ্দিক, যিনি লন্ডনের হ্যামস্টেড ও হাইগেট আসনের এমপি, বর্তমানে বাংলাদেশের দুর্নীতি তদন্তের মুখোমুখি। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—বাংলাদেশে তার খালা শেখ হাসিনার শাসনামলে বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা।

তবে টিউলিপ সিদ্দিক এসব অভিযোগকে "ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত" বলে দাবি করেছেন। স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত আমার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো যোগাযোগ করেনি। শুধু অভিযোগ তুলে তারা চুপ করে বসে আছে।"


তিনি আরও বলেন, তার আইনজীবীরা বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কে চিঠি লিখে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তারা সব প্রশ্নের আনুষ্ঠানিক উত্তর দিতে প্রস্তুত।

বিক্ষোভ ও পদত্যাগের পেছনের কারণ
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশে দুর্নীতির বেশ কয়েকটি তদন্তে টিউলিপ সিদ্দিকের নাম উঠে আসে। এরপর দেশ-বিদেশে তীব্র সমালোচনা ও বিক্ষোভের মুখে তিনি ব্রিটিশ ট্রেজারি মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।


গত আগস্টে বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে তার বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভ হয়, যা তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে।

ব্রিটিশ সরকারের প্রতিক্রিয়া
টিউলিপ সিদ্দিক তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তের জন্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মান নিয়ন্ত্রক উপদেষ্টা স্যার লরি ম্যাগনাসের কাছে নিজেকে সোপর্দ করেন।

স্যার লরি ম্যাগনাস তদন্ত শেষে জানান, "টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অনিয়মের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে পারিবারিক সম্পর্কের কারণে তিনি কিছু ঝুঁকির মুখে ছিলেন এবং এ বিষয়ে তাকে আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল।"

বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া কী হবে?
টিউলিপ সিদ্দিকের এমন বক্তব্যের পর এখন দেখার বিষয়, বাংলাদেশ সরকার ও দুদক এ বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া জানায় এবং কী পদক্ষেপ নেয়। তার আইনজীবীদের দাবি, ২৫ মার্চের মধ্যে দুদক যদি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশ্ন না পাঠায়, তাহলে ধরে নেওয়া হবে যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের আর কোনো ভিত্তি নেই।

টিউলিপ সিদ্দিকের এই বক্তব্য ও আইনি পদক্ষেপের পর বাংলাদেশ সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন সকলের নজরে।