এবার যে কারনে ঢাকায় আসছে আইএমএফের প্রতিনিধি দল

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থছাড় নিয়ে আলোচনার জন্য সংস্থাটির এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা রাহুল আনন্দের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসছেন। প্রতিনিধিদলটি ৫ এপ্রিল ঢাকায় এসে ৬ এপ্রিল থেকে দুই সপ্তাহ সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবেন। এদিকে বাংলাদেশ কিস্তির অর্থছাড় পেতে বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে আইএমএফ। যা পূরণ করতে হবে বাংলাদেশকে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইএমএফের ঋণের দুই কিস্তির অর্থ একসঙ্গে পেতে বাংলাদেশের সামনে মোটাদাগে তিনটি বাধা রয়েছে। এগুলো হলো মুদ্রা বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করা, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) দশমিক ৫ শতাংশ হারে বাড়তি রাজস্ব আদায় ও এনবিআরের রাজস্ব নীতি থেকে রাজস্ব প্রশাসনকে আলাদা করা।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আইএমএফকে জানানো হয়েছে, এসব শর্ত বাস্তবায়ন করা হবে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজস্ব নীতি থেকে রাজস্ব প্রশাসনকে আলাদা করার পদক্ষেপ ছাড়া বাকি দুটির বিষয়ে তেমন অগ্রগতি নেই। তবে ক্রলিং পেগ পদ্ধতিতে বিনিময় হার নির্ধারণ করা হচ্ছে। যার কারণে হঠাৎ ডলারের দাম খুব বেশি বেড়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এ পদ্ধতিতে ডলারের দাম ১২২ টাকায় স্থিতিশীল আছে।
এইদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানিয়েছে, আইএমএফের প্রতিনিধিদল দুই সপ্তাহ বাংলাদেশের সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকগুলোতে অংশ নেবে অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, ইআরডি, বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, বিইআরসি, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, বিবিএস, বাণিজ্য ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়। সফরের শেষে ১৭ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে তারা মূল্যায়ন ও সুপারিশ জানাবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে জানা গেছে, আইএমএফ সঙ্গে ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ চুক্তি করে বাংলাদেশ। এরইমধ্যে তিনটি কিস্তির অর্থছাড় করেছে আইএমএফ। এরমধ্যে প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলার ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পায়। একই বছরের ডিসেম্বরে পেয়েছে দ্বিতীয় কিস্তির ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। আর ২০২৪ সালের জুনে তৃতীয় কিস্তির ১১৫ কোটি ডলার পেয়েছে। তিন কিস্তিতে বাংলাদেশ প্রায় ২৩১ কোটি ডলার পায়। ঋণের অর্থছাড় বাকি আছে ২৩৯ কোটি ডলার।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বাজেট সহায়তার জন্য এই ঋণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত দুটি কিস্তি একসঙ্গে ছাড়ের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার এবং আইএমএফ একমত হয়েছে।